ইউক্রেন যুদ্ধ: ৫০ বছরে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসছে পণ্যের বাজারে

ফানাম নিউজ
  ২৯ এপ্রিল ২০২২, ০৫:০৬

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার কারণে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনের দিনগুলোতে পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের পণ্য বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ১৯৭০ সালের পর প্রথম বারের মতো এমন সংকট তৈরি হতে পারে।

নতুন এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সংঘাতের কারণে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে শুরু করে গম ও তুলা পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের দাম ইতোমধ্যেই বেড়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ব ব্যাংকের নতুন এই প্রতিবেদনের সহ-লেখক পিটার ন্যাগল বলেন, পণ্যের দামের এই ঊর্ধ্বগতি এরইমধ্যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও মানবিক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়ছে মানুষ।

বিশ্ব ব্যাংকের এই শীর্ষ অর্থনীতিবিদ বলেন, গরীব পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে এই সংকট আরও ভয়াবহ। কারণ তাদের আয়ের সিংহভাগ খাবার ও জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়ে যায়। পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব তাদের ওপরই সবচেয়ে বেশি পড়বে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। ফলে সংসারের ব্যয় এবং ব্যবসায়ের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে সবচেয়ে বেশি বাড়বে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম, যা দ্বিগুণের বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে এবং ২০২৪ সালের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে গ্যাসের দাম ১৫ শতাংশ বেশি থাকবে।

বিশ্ব ব্যাংক বলছে, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বিশ্ব টানা ২৩ মাস জ্বালানির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে ১৯৭৩ সালে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পর এটাই দীর্ঘতম সময় ধরে জ্বালানির দাম যাওয়ার ঘটনা।

একইভাবে জ্বালানি তেলের দামও ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়তি থাকবে এবং চলতি বছরজুড়ে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গড়ে ১০০ ডলারে বিক্রি হবে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বের ১১ শতাংশ তেল উৎপাদন করে রাশিয়া, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে যুদ্ধের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটা এবং পশ্চিমা অবরোধের ফলে একটি দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে। অবরোধের কারণে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো রাশিয়া ছেড়ে যাবে এবং দেশটির নতুন প্রযুক্তি পাওয়ার সুযোগ কমে আসবে।

রাশিয়া বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাহিদার ৪০ শতাংশ গ্যাস ও ২৭ শতাংশ তেল সরবরাহ করে। কিন্তু ইইউ রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছে, যা বিশ্বজুড়ে তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত চাহিদা ও সরবরাহ ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে।

অনেক খাদ্য পণ্যের দাম হঠাৎ করেই লাফিয়ে বেড়ে গেছে এবং আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গমের দাম ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়তে পারে। খাদ্য পণ্যের মধ্যে বার্লি ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ, সয়াবিন ২০ শতাংশ, ভোজ্য তেল ২৯ দশমিক ৮ শতাংশ ও মুরগির দাম ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে এসব পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট সয়াবিনের ৬০ শতাংশ এবং গম রপ্তানির ২৮ দশমিক ৯ শতাংশ এ দুই দেশ থেকেই আসতো। সার, বিভিন্ন ধাতু ও খনিজ দ্রব্যের মতো কাঁচামালের দামও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তবে কাঠ, চা ও চালের মত কয়েকটি পণ্যের দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।