
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ঘরে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম মো. নবীন হোসেন (২২)। তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এর আগে একই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন সোহান বেপারী (৩২)। এ নিয়ে ওই বিস্ফোরণে মোট দুজনের মৃত্যু হলো।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারী কান্দি গ্রামে একটি টিনের ঘরে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারী কান্দির দেলোয়ার বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি রসুনখেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হন মো. নবীন হোসেন ও নয়ন মোল্লা। তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে নবীন হোসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গুরুতর আহত নয়ন মোল্লার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুদ্দুস বেপারী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে কুদ্দুস বেপারীর চাচাতো ভাই সাগর বেপারীর সদ্য নির্মিত বসতঘরে হাতবোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণে ঘরের চালা উড়ে যায় এবং ঘরটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ নবীন হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ককটেল তৈরির সময়ই বিস্ফোরণটি ঘটে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।