চীনের বিকল্পে নজর বৈশ্বিক কোম্পানির

ফানাম নিউজ
  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২:০২

১৯৮৭ সালে চীনে বড় ধরনের ঝুঁকি নেয় প্যানাসোনিক। এটি একটি জাপানি কোম্পানি। যদিও সে সময় উৎপাদনের ক্ষেত্রে জাপান ছিল অন্যতম পরাশক্তি। একই সময়ে চীনের অর্থনীতি ছিল কানাডার চেয়েও ছোট। যখনই প্যানাসোনিক চীনের সঙ্গে যৌথ উৎপাদনে যায়, তখন এর আকার বাড়তে থাকে। এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ছিল চীনের সস্তা শ্রম।

এর কয়েক দশক পরে চীন এখন ট্রিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিকস ভোক্তা বাজার। ২০২১ সালে দেশটি এক ট্রিলিয়ন ডলারের ইলেকট্রনিকস পণ্য রপ্তানি করে। এ সময় বিশ্বের মোট রপ্তানি ছিল তিন দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলার। এমন পরিস্থিতিতে যারা চীন ছাড়তে চায় তাদের অনেকে বেশি দৃঢ়তা প্রয়োজন।

সম্প্রতি বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক চাপ অতীতের চেয়ে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলোও পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছে। কারণ আগের মতো সস্তা শ্রম চীনে এখন আর নেই। ২০১৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে মজুরি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। তাছাড়া বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্প্রতি বাণিজ্য যুদ্ধ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ফলে কোম্পানিগুলো যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাচ্ছে।

একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে জাপানি কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম চীনে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২৯ জানুয়ারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোনি পরিকল্পনা করছে জাপান ও পশ্চিমা দেশে বিক্রির জন্য যেসব ক্যামেরা চীনে উৎপাদন হয়, তা এখন সরিয়ে ফিলিপাইনে নেবে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানি স্যামসাং এরই মধ্যে চীনা কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই করেছে। তাছাড়া মার্কিন কোম্পানি ডেল চীনের তৈরি চিপের ব্যবহার ২০২৪ সালের মধ্যে বন্ধ করবে।

ডেল, স্যামসাং, সোনি ও তাদের সমবয়সীদের জন্য প্রশ্ন হলো কোথায় হতে পারে বিকল্প। যদিও কোনো একক দেশ চীনের বিশাল উৎপাদন বেস অফার করে না। তবুও একত্রে নেওয়া হলে এশিয়াজুড়ে অর্থনীতির প্যাচওয়ার্ক একটি শক্তিশালী বিকল্প উপস্থাপন করে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তর জাপানের হোক্কাইডো থেকে দক্ষিণ কোরিয়া। রয়েছে, ভারত, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশ।

এশিয়ার এই বিকল্প দেশগুলো চীনের মতোই অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি ভালো হতে পারে। চীনের থেকেও এখানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি। অ্যালটাসিয়া নামে পরিচিত এই বিকল্পে এক দশমিক চার বিলিয়ন কর্মক্ষম লোক রয়েছে। যেখানে চীনের রয়েছে ৯৮০ মিলিয়ন। তাছাড়া অ্যালটাসিয়ার কিছু কিছু জায়গায় মজুরি চীনের থেকে অনেক কম রয়েছে। ভারত, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনস, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে ঘণ্টায় মজুরি তিন ডলারের কম। চীনের বর্তমান চাহিদার তুলনায় যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কম। বর্তমানে তাদের রপ্তানি চীনকে ছাড়িয়ে গেছে।

অ্যালটাসিয়া অর্থনৈতিকভাবেও সংহত হয়েছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব। বেশিরভাগ অ্যালটাসিয়ান দেশ ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্কের সদস্য। ব্রুনাই, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনাম কম্প্রিহেনসিভ ও প্রোগেসিভ চুক্তির অধীনে। কানাডা, মেক্সিকোসহ বেশি কিছু দক্ষিণ আমেরিকার দেশও এর অন্তর্ভুক্ত।

পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্বের নন-অ্যালটাসিয়ান কোম্পানিগুলো অঞ্চলটিতে নজর রাখছে। বিশেষ করে ভারতীয় কারখানাগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। দেশটিতে আইফোনের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এমনকি তাইওয়ানের কোম্পানিগুলোও চীনের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। গুগল অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কার্যক্রম চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিচ্ছে।