• সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
উত্তপ্ত সংসদ, প্রথম অধিবেশনে যা যা ঘটলো
উত্তপ্ত সংসদ, প্রথম অধিবেশনে যা যা ঘটলো
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ দেয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল সংসদ। রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় ৫ মিনিট বিক্ষোভের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণের জন্য সংসদে আমন্ত্রণ জানালে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম কিছু বলার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। স্পিকার মাইক না দিলে নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে বলেন, ‘কিলার ইন দা পার্লামেন্ট!’ তিনি ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ জানান। এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় সব সদস্য নানা বক্তব্য দিয়ে তৈরি প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে শুধু জামায়াতের আমির তাঁর আসনে বসে ছিলেন। স্পিকার বিরোধীদলীয় সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বিক্ষোভ দেখাতেই থাকেন। একপর্যায়ে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ‘কিলার চুপ্পু, বয়কট চুপ্পু’ বলে স্লোগান দেন। এই হইচইয়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদে স্পিকারের আসনের পাশে আসেন। স্পিকার তাঁকে চেয়ারে বসার অনুরোধ জানান। তখনো বিক্ষোভ চলছিল। একপর্যায়ে স্পিকার রাষ্ট্রপতিকে তাঁর ভাষণ দেওয়ার অনুরোধ জানান। রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিতে দাঁড়ালে তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনি রাষ্ট্রের অভিভাবক ছিলেন। কিন্তু আপনি সেই অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। আপনি ফ্যাসিবাদের দোসরের ভূমিকা পালন করেছেন। অন্য সংসদ সদস্যরা ‘গেট আউট, গেট আউট’ বলে স্লোগান দেন। এ সময় কিছু সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিরোধী দলের সদস্যরা ‘ফ্যাসিবাদের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ফ্যাসিবাদ আর গণতন্ত্র, একসাথে চলে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণ শুরু করেন। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি দলের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে ‘লজ্জা লজ্জা’ হলে বিদ্রূপ করেন। স্পিকার এ সময় বারবার সংসদ সদস্যদের প্রতি সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা করার আহ্বান। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। শেষে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ‘ওয়াকআউট’ করার ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। অন্যদিকে ভাষণ চালিয়ে যেতে থাকেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হয়। এর পরপরই অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় সদস্যরা আর সংসদ অধিবেশনে যোগ দেননি। আগামী ১৫ মার্চ সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।   ছবি: সংগৃহীত রোববার পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী রোববার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।  রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানান স্পিকার। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’। স্পিকার একাধিকবার সদস্যদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। তবে স্লোগান অব্যাহত থাকায় একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। ভাষণে তিনি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি ও তাদের মিত্রদের অভিনন্দন জানান। শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় সরকারি বেঞ্চের সদস্যদের টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায়। সংসদ কক্ষ থেকে বেরিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রাষ্ট্রপতির সমালোচনা করে বলেন, জুলাইয়ের সহিংসতার সময় রাষ্ট্রপতি কার্যকর ভূমিকা নেননি। তার ভাষায়, ‘সে সময় তিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী ছিলেন। তাই এই সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নৈতিক অধিকার তার নেই।’ রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে স্পিকার অধিবেশন আগামী রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপতির ৩ অপরাধে ভাষণ বর্জন করেছি : জামায়াত আমির রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রপতির তিন অপরাধে তার ভাষণ বর্জন করা হয়েছে। তার বক্তব্য এই মহান সংসদে আমরা শুনতে পারি না। বিকেলে সংসদ থেকে বেরিয়ে তিনি একথা বলেন। ওয়াক আউট শেষে সাংবাদিকদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, এই সংসদে ফ্যাসিস্টের দোসর, খুনির কোনো দোসর যেন বক্তব্য রাখতে না পারে। 'এই প্রেসিডেন্ট তিনটা কারণে অপরাধী। প্রথম কারণ, তিনি সব খুনের সহযোগী ছিলেন। দ্বিতীয়ত, তিনি ২০২৪ সালের আগস্টের ৫ তারিখ তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন’, বলেন তিনি। তৃতীয় কারণ হিসেবে জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স স্বাক্ষর করেছেন। নির্বাচনে দুটি ভোট হবে, এতে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবে তারা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হবেন। একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন। এই শপথ দুটি আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি।   ছবি: সংগৃহীত ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনেই ৫ কমিটি গঠন, নেতৃত্বে স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।  স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এই কমিটিগুলো অনুমোদিত হয়। এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজে কার্য উপদেষ্টা ও সংসদ কমিটির ঘোষণা দেন। অন্যদিকে বিশেষ কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটি এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির নাম প্রস্তাব করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সংসদ পরিচালনায় নীতিনির্ধারণী এই কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। কমিটির সদস্যরা হলেন— সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম মনি, আসাদুজ্জামান, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এটিএম আজহারুল ইসলাম, নাহিদ ইসলাম ও নওশাদ জামির। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জয়নাল আবদিনকে।  কমিটির উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন— মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম মনি, ড. এম ওসমান ফারুক ও এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ। এর আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করেন। তালিকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি তহবিল অধ্যাদেশ ২০২৫, জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা রহিতকরণ অধ্যাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো রয়েছে। বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটির সভাপতিও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সংসদ নেতা তারেক রহমান, বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, কায়সার কামাল, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নূরুল ইসলাম মনি, জয়নাল আবদিন ফারুক ও নাহিদ ইসলাম। এই কমিটিতে বিরোধী দল থেকে আরও একজন সদস্য পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংসদ ও বেসরকারি সদস্য বিল কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সদস্য হিসেবে আছেন রাকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু ও কায়ছার আহমদসহ ১১ জন। বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত প্রস্তাব কমিটির সভাপতি হয়েছেন মো. শাহজাহান। সদস্যরা হলেন— আসাদুজ্জামান, আমান উল্লাহ আমান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, তাহসিনা রুশদী ও আখতার হোসেন প্রমুখ। সংসদীয় কার্যসূচিতে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইন সংশোধন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। খালেদা জিয়া মানেই আপসহীন গণতন্ত্র আর সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী: মির্জা ফখরুল প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশপ্রেম ও সাহসিকতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দীর্ঘ ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রশ্নে কখনোই কারও সঙ্গে আপস করেননি। জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে তিনি খালেদা জিয়ার শাসনমলে গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবে জীবন উৎসর্গকারী তরুণদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, আমাদের ছেলেরা একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য প্রাণ দিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। খালেদা জিয়ার শাসনকালের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ভিত্তি তিনিই গড়েছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, উন্মুক্ত ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের অনুমতি ছিল তার দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। কৃষি ও অর্থনীতিতে বেগম জিয়ার অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মকুফ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মাফ করে তিনি গ্রামবাংলার মানুষের ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন। তার হাত ধরেই মুক্তবাজার অর্থনীতি ও স্বনির্ভর অর্থনীতির যাত্রা শুরু হয়েছিল। মির্জা ফখরুল বলেন, কারামুক্ত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন— ‘আসুন আমরা ভালোবাসার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’ বিএনপি মহাসচিব স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বেগম জিয়ার এই দর্শনই আমাদের আগামীর পথ চলার প্রেরণা।   শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত গণতন্ত্রের মা বেঁচে থাকবেন মানুষের অনুপ্রেরণা হয়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আজকে ‘গণতন্ত্রের মা’ আমাদের মাঝে নেই, তবে তিনি দেশের মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ এই সংসদে উপস্থিত থাকলে আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। তিনি যতবার যতগুলো আসনে নির্বাচন করেছেন, সবকটিতেই জয়লাভ করেছেন। এটিই প্রমাণ করে দেশের মানুষের কাছে তার জনপ্রিয়তা কতটা আকাশচুম্বী।  তিনি আরও যোগ করেন, আজকে সেই গণতন্ত্রের মা সশরীরে আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক মানুষের মাঝে আছেন। গণতন্ত্রের লড়াইয়ে তিনি আজীবন অনুপ্রেরণা হিসেবে জীবিত থাকবেন। এসময় তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জামায়াতের এটিএম আজহারুল ইসলাম স্মৃতিচারণ করে বলেন, খালেদা জিয়ারসঙ্গে আমরা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। তিনি দেশের স্বার্থে সবসময় অটল ও আপসহীন ছিলেন। এসময় তিনি সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের নিয়ে আলোচনায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানেই নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা। আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার চাই এবং একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়তে চাই।  পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। আলোচনায় আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। আলোচনা শেষে সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবগুলো সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এরপর নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সবশেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।   হাজারো শহীদের রক্তে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে: রাষ্ট্রপতি দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি।  তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন এক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।  রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন, পাঁচ শতাধিক মানুষ তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সরকার আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ১২৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড প্রদান করেছে এবং গুরুতর আহত ১৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ এবং ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ এই মহান সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় আপসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সামনের দিনগুলোতে আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৭৮ বিলিয়ন ইউএস ডলারে উন্নীত হয়েছে। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে ব্যাংক খাতের সুশাসন ফিরিয়ে আনা এবং পুঁজিবাজারের অনিয়ম তদন্তে কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কারে একটি পৃথক কমিশন গঠন করা হবে যারা ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হওয়া সকল অনিয়ম তদন্ত করবে।   আমার কাছে সরকারি-বিরোধী দল আলাদা কিছু নয়: স্পিকার জাতীয় সংসদ পরিচালনায় পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সংসদের অভিভাবক হিসেবে তার কাছে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাদা কিছু নয়। তিনি ঘোষণা করেন, সংসদের কার্যক্রমে ইনসাফ কায়েম করা এবং বিরোধী দল যাতে কার্যকর ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সর্বদা সচেষ্ট থাকবেন। স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি এর স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থই হবে এই সংসদের মূল চালিকাশক্তি। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে সংসদকে দেশের সকল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে বড় করে দেখতে হবে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলমন্ত্র নিয়ে সংসদ সদস্যদের কাজ করতে হবে বলে জানান তিনি।  স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নব নির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দুপুরে এ শপথ পড়ানো হয়। জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এই শপথ পড়ানো হয়। তার আগে সংসদ সদস্যের হ্যাঁ ভোটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করা হয়।   স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন প্রধানমন্ত্রী নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজ থেকে আপনারা কোনো দলের নন, আপনারা এই মহান জাতীয় সংসদের অভিভাবক। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সংসদকে অধিকার লঙ্ঘনকারীদের ক্লাবে পরিণত করা হয়েছিল। কিন্তু আজকের এই সংসদ সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংসদ। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সংসদের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বিগত দেড় দশকে যারা নিজেদের এমপি পরিচয় দিয়েছিলেন, তারা কেউ জনগণের ভোটে নির্বাচিত ছিলেন না। আজ দেশের স্বাধীনতা প্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষ এই সংসদের দিকে এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা এই সংসদকে অর্থবহ করতে চাই। হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি: প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে জাতীয় সংসদ হবে দেশের সব যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার শুরুতে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না আর হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি দায়বদ্ধ সংসদ পেয়েছি। যারা গুম, খুন এবং আয়নাঘরের মতো বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সাহসিকতাতেই আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রদূত উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। কিন্তু বিগত শাসনামলে সেই সংসদকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি আপসহীনভাবে লড়াই করেছেন, কিন্তু এই শুভ মুহূর্তটি দেখে যেতে পারেননি। আমরা তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। একইসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তবে আমি সেই দলেই আছি। ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই বড়—এটাই বিএনপির মূল দর্শন। তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, আমি দলীয়ভাবে নির্বাচিত হলেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। আমাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু একটি সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রশ্নে আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। তিনি প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সব সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন। বর্তমান সংসদের বিশেষ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জনরোষে সাবেক স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারদের কাউকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হয় কারাগারে, না হয় পলাতক। এই সংকটকালীন অধিবেশনে সভাপতিত্বের প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। আজকের এই নজিরবিহীন প্রেক্ষাপটে আমরা প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু করছি। সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন ঢাকার বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা। বিদেশি দূতরা সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। ঢাকার কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন। ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করায় বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রক্রিয়ার প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। ঢাকার ফ্রান্স দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফ্রেডেরিক ইনজা বলেন, বাংলাদেশের ১৩তম সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দেশের স্থায়ী অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমরা নবনির্বাচিত সংসদের বাংলাদেশের জনগণের সেবা এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য একটি ফলপ্রসূ এবং সফল যাত্রা কামনা করি। ঢাকার কানাডীয় হাইকমিশন এক বার্তায় জানিয়েছে, ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার  হাই কমিশনার অজিত সিং  সংসদের  উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। এটা বাংলাদেশের জনগণ ও গণতন্ত্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এই ঐতিহাসিক অধিবেশন উদ্বোধন প্রত্যক্ষ করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করেছেন। এ ছাড়া, বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরল্ড গুলব্রান্ডসেন, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স কর স্টুটেন প্রমুখ যোগ দেন। বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।  অধিবেশনের শুরুতেই বর্তমান রাষ্ট্রপতি বা স্পিকারের (প্রেক্ষাপট অনুযায়ী) পক্ষ থেকে এই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শোক প্রস্তাব উত্থাপনকালে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর আমরা হারিয়েছি তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় তার অবদান চিরস্মরণীয়। সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে। বাংলাদেশি নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে সংসদ। এ তালিকায় রয়েছেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। অধিবেশনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ডা. এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। তাদের জীবনবৃত্তান্ত সম্বলিত শোক প্রস্তাব সংসদে পাঠ করা হয়। শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর প্রয়াতদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে সংসদে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই শোক প্রস্তাবের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রথম অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।  বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নাম প্রস্তাব করেন। পরে দলের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সেটি সমর্থন জানান। তারপর এ সিদ্ধান্তে জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমির সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাহের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সমর্থন জানান। বেলা ১১টার পর শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।  

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট

রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট

দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা এই সংসদ অর্থবহ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা এই সংসদ অর্থবহ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সংসদে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি’

‘সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি’

জ্বালানি সংকটের চাপ: সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার শঙ্কা

জ্বালানি সংকটের চাপ: সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতার শঙ্কা

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ
আমরা দফায় দফায় রাষ্ট্রপতির নীতিগত বৈধতা অস্বীকার করেছি: জামায়াত আমির
আমরা দফায় দফায় রাষ্ট্রপতির নীতিগত বৈধতা অস্বীকার করেছি: জামায়াত আমির
আমরা দফায় দফায় রাষ্ট্রপতির নীতিগত বৈধতা অস্বীকার করেছি বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। জামায়াত আমির বলেন, আমরা সরকারি দলকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, স্পিকারকেও অনুরোধ করেছিলাম- রাষ্ট্রপতিকে যেন ভাষণ দিতে না দেওয়া হয়। তারা আমাদের কথা গ্রাহ্য করেননি। তাই আমরা ক্ষুব্ধ হয়ে বের হয়ে এসেছি। আগামীতে এই সংসদে কোনো অন্যায় মেনে নেবো না। আমরা জনগণের স্বার্থ ও অধিকারের পক্ষে লড়াই করে যাবো। তিনি বলেন, এই রাষ্ট্রপতিকে আমরা দফায় দফায় প্রত্যাখ্যান করেছি, অস্বীকার করেছি। গত দেড় বছর থেকে আমরা দফায় দফায় রাষ্ট্রপতির নীতিগত বৈধতা অস্বীকার করেছি। জামায়াত আমির বলেন, এই সংসদ কারও একার নয়, ১৮ কোটি মানুষের সংসদ। জনগণের অধিকারের জন্য লড়াই করতে এসেছি। জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা আপনাদের রায়কে সম্মান করি, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি, আপনারাও আমাদের সঙ্গে থাকবেন। এর আগে, ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের সংসদ সদস্যরা সংসদে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও বিক্ষোভ করেন। এসময় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ শুরু করলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন। এসময় তারা ভারতের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধানসহ নানান স্লোগান দিতে থাকেন।

সংসদ যেন চরিত্রহননের কেন্দ্র না হয়: বিরোধীদলীয় নেতা

সংসদ যেন চরিত্রহননের কেন্দ্র না হয়: বিরোধীদলীয় নেতা

‘সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই’

‘সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই’

সাবেক ছাত্রদল নেতার চোখে বিএনপি এখন ভারতপন্থী

সাবেক ছাত্রদল নেতার চোখে বিএনপি এখন ভারতপন্থী

ডেঙ্গুতে একদিনে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ৭০৫

ডেঙ্গুতে একদিনে ২ মৃত্যু, হাসপাতালে ৭০৫

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৩৯

ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৩৯

ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৯৫

ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১১৯৫
‘সবচেয়ে তীব্র’ হামলার দিন পার করল ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা
‘সবচেয়ে তীব্র’ হামলার দিন পার করল ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মঙ্গলবার ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ও ইরানের স্থানীয় বাসিন্দারা গতকালের হামলাকে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে তীব্র হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, তারাও গতকাল কাতারে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি এবং ইরাকের কুর্দিস্তানে আল-হারির ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ের নৌঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ভোরে বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় আরও একটি হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া ভোরে ইরান থেকে ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থল লক্ষ্য করে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কথাও বলা হয়েছে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে রকেটগুলো প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় বিমান হামলাজনিত সতর্কসংকেত বাজতে থাকলে ইসরায়েলিরা নিরাপদ কক্ষ ও আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটে যান। কোনো ক্ষেপণাস্ত্র মাটিতে পড়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রায় একই সময়ে লেবাননের বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। লেবাননে ইরান–সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে নির্মূল করার লক্ষ্যে এমন হামলা চালানো হচ্ছে। হিজবুল্লাহ ইরান সরকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে। গতকাল হোয়াইট হাউস আবারও বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার যেকোনো পদক্ষেপের জবাবে ইরানে শক্তিশালী হামলা চালানো হবে। যুদ্ধের কারণে এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের পরিবহন কার্যত থমকে গেছে। এ ছাড়া হোয়াইট হাউস আবারও ঘোষণা দিয়েছে, কেউ চাইলে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দিয়ে নিরাপদে পার করে দেবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, ‘আজও ইরানের ভেতরে আমাদের সবচেয়ে তীব্র হামলার দিন হবে। সবচেয়ে বেশি যোদ্ধা, সবচেয়ে বেশি বোমারু বিমান ব্যবহার করা হবে, সবচেয়ে বেশি হামলা হবে, গোয়েন্দা তথ্য আরও নিখুঁত ও আগের চেয়ে ভালো হবে।’ দিনের শেষ দিকে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমরা ইরানের ১০টি “নিষ্ক্রিয় মাইন” বসানো জাহাজকে আঘাত করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছি।’ এ হামলাগুলো কোথায় হয়েছে, তা ট্রাম্প স্পস্ট করেননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স তেহরানের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তাঁরাও বলেছেন, গতকাল রাত ছিল চলমান যুদ্ধে সবচেয়ে তীব্র হামলার রাত। এক বাসিন্দা ফোনে রয়টার্সকে বলেন, ‘এটিকে নারকীয় মনে হচ্ছিল। তারা তেহরানের সব জায়গায় বোমা ছুড়ছিল।’ নিরাপত্তার কারণে ওই বাসিন্দা তাঁর নাম প্রকাশ করতে চাননি। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার সন্তানেরা এখন ঘুমাতে ভয় পাচ্ছে।’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি দূত আমির সাইদ ইরাবানি বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরাবানি আরও বলেন, হামলায় প্রায় আট হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৬০০টি ‘বাণিজ্যিক ও সেবাকেন্দ্র’ এবং বেশ কয়েকটি চিকিৎসা, শিক্ষা ও জ্বালানি সরবরাহকেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে।

শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না ইরান: ভাষণে পেজেশকিয়ান

শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না ইরান: ভাষণে পেজেশকিয়ান

‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর অপেক্ষায় আছি’

‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর অপেক্ষায় আছি’

ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানো ‘সময়ের অপচয়’ বললেন ট্রাম্প

ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানো ‘সময়ের অপচয়’ বললেন ট্রাম্প

যেভাবে খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা সাজিয়েছিল মোসাদ ও সিআইএ

যেভাবে খামেনিকে হত্যার পরিকল্পনা সাজিয়েছিল মোসাদ ও সিআইএ

ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা
নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ৪
নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ৪
নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩) ভোরে সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওলি মিয়া। নিহতরা হলেন- খলিল (৬০), তাহাজ্জত (৩০), ওসি (৩০) ও ফেরদৌস (৪০)। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তবে তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা। নড়াইল সদর থানার ওসি মোহাম্মদ ওলি মিয়া বলেন, সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন ও পরে সদর হাসপাতালে নিলে আরও একজনের মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ, নিহত ২

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ, নিহত ২

খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত

খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত

মধ্যরাতে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণ, ৬ জনের কারাদণ্ড

মধ্যরাতে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণ, ৬ জনের কারাদণ্ড
আমার এলাকার সংবাদ
অনুসন্ধান
লন্ডনে চুরি যাওয়া ফোনের অবস্থান এক মাস পর দেখাচ্ছে চীনে
লন্ডনে চুরি যাওয়া ফোনের অবস্থান এক মাস পর দেখাচ্ছে চীনে
এপ্রিল মাস, শনিবারের এক ভোরে আকারা ইতেহ মধ্য লন্ডনের হোলবর্ন টিউব স্টেশনে হেঁটে হেঁটে আসার সময় নিজের ফোন ঘাঁটছিলেন। মুহূর্ত কয়েক পরই ইলেকট্রিক বাইকে আসা এক ছিনতাইকারী তাঁর হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেয়। নিজের ফোন উদ্ধারে ছিনতাইকারীর পেছনে ছুট লাগিয়েছিলেন আকারা। কিন্তু ধরতে ব্যর্থ হন। আকারা একা এ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাননি; বরং এ বছর এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়ালসে প্রায় ‘৭৮ হাজার’ ফোন ছিনতাই হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা অনেক বেশি। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার হওয়ার হার খুবই কম। পুলিশের বক্তব্য, তারা দায়ী অপরাধীদের খোঁজ করে। কিন্তু তারা যেভাবে গায়েব হয়ে যায় বা এত ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে যে তাদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে যায়। এ ধরনের অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা তাঁদের দুর্দশার কথা বিবিসিকে বলেছেন। বলেছেন, ফোন হারিয়ে গেলে এমন অনেক ছবি ও তথ্য হারিয়ে যায়, যেগুলো আর কখনো ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি তো আছেই। তাঁদের মধ্যে আকারার মতো অনেকে আরও একটি কারণে নিদারুণ হতাশায় ডুবে যান। আকারা তাঁর ফোনটি কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছে, তা অনলাইনে অনুসরণ করতে পারছেন; কিন্তু সেটি ফেরত আনার ক্ষমতা তাঁর নেই। ফোন ছিনতাই হওয়ার এক ঘণ্টা বা তার কিছু পরে বাড়িতে ফিরে আকারা তাঁর আইফোন ১৩ হারিয়ে গেছে (লস্ট মুড) অপশনটি চালু করেন। এটা করা হলে চোর ওই ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। এরপর আকারা তাঁর ল্যাপটপের সাহায্যে ‘ফাইন্ড মাই আইফোন’ ফিচার চালু করেন। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আকারা তাঁর ফোনটি কোথায় আছে, সেটা দেখতে পারেন। ল্যাপটপের স্ক্রিনে লন্ডনের বিভিন্ন জায়গায় নিজের ফোন ঘুরে বেড়াতে দেখেন আকারা। ফোন উদ্ধারের আশায় ল্যাপটপে দেখানো দুই জায়গায় নিজেই গিয়েছিলেন আকারা। তিনি বলেন, ‘এটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। উত্তেজনায়, রাগে আমি এটা করেছিলাম।’ আকারা অবশ্য কারও সঙ্গে কথা বলেননি। তবে বুঝতে পারছিলেন, তাঁকে কেউ অনুসরণ করছে। তিনি বাড়ি চলে যান। আকারা বলেন, ‘আমি খুবই ক্ষুব্ধ ছিলাম। ফোনটা দামি। ওই ফোন কিনতে আমি কঠোর পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করি এবং কেউ একজন সব ঘেঁটে দিল।’ আকারার ফোনটি যখন চুরি যায়, তখন রাস্তায় তিনি পুলিশ দেখতে পেয়ে তাদের সবকিছু খুলে বলেছিলেন। যদিও তাঁর মনে হয়েছে, পুলিশ কর্মকর্তারা জানতেন, ফোন চুরি করতে চোররা ওই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাকে অনলাইনে অভিযোগ করার পরামর্শ দেয় এবং তিনি সেটা করেন। কয়েক দিন পর ই–মেইল পাঠিয়ে পুলিশ আকারাকে জানায়, তাঁর ফোন চুরির মামলাটির তদন্তকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বলেছে, ‘সম্ভবত আমরা দোষীদের শনাক্ত করতে পারব না।’ যেখান থেকে ফোন চুরি হয়েছিল, সেখানকার ছবি ও কিছু তথ্য আকারা পুলিশকে দিয়েছিলেন। পুলিশ সেটা গ্রহণ করেছে। কিন্তু ফোন উদ্ধারে আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফোন চুরির ঠিক এক মাস পর, মে মাসে আকারা তাঁর ‘ফাইন্ড মাই আইফোন’ আবার দেখেন। তখন সেটির অবস্থান দেখাচ্ছিল শেনজেন, চীন। আকারা এবার সব আশা ছেড়ে দেন। চুরি যাওয়া অনেক ফোনের শেষ গন্তব্য হয় শেনজেন। সেখানে যদি ফোনটি খোলা এবং নতুন করে ব্যবহার করা না যায়, তাঁরা সেটির যন্ত্রাংশ খুলে ফেলে এবং আলাদা আলাদা করে বিক্রি করে। ১ কোটি ৭৬ লাখ মানুষের শহর শেনজেন, বিশাল বড় একটি প্রযুক্তিনগরী। শেনজেনকে তাই চীনের সিলিকন ভ্যালি বলা হয়।

লন্ডনে গুরুতর অসুস্থ ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

লন্ডনে গুরুতর অসুস্থ ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

‘কনসার্ট ফর নিউ বাংলাদেশ’-এ গাইবেন জেমস-হাসান

‘কনসার্ট ফর নিউ বাংলাদেশ’-এ গাইবেন জেমস-হাসান

লন্ডনের মতো শহরের তাপমাত্রা কমাতে পারে সাদা রং

লন্ডনের মতো শহরের তাপমাত্রা কমাতে পারে সাদা রং

লন্ডনের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমকে ফেরত আনা হচ্ছে ঢাকায়

লন্ডনের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমকে ফেরত আনা হচ্ছে ঢাকায়

ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবিতে দেশে দেশে বিক্ষোভ

ইসরায়েলের হামলা বন্ধের দাবিতে দেশে দেশে বিক্ষোভ

লন্ড‌নে প্রতি‌বেশীর ছুরি‌কাঘাতে বাংলা‌দেশি নিহত

লন্ড‌নে প্রতি‌বেশীর ছুরি‌কাঘাতে বাংলা‌দেশি নিহত
টাকা ছিটাচ্ছেন ট্রাম্প ও কমলা, কে এগিয়ে
টাকা ছিটাচ্ছেন ট্রাম্প ও কমলা, কে এগিয়ে
অক্টোবরে ১৬ দিনে ব্যয় ৬ হাজার কোটি টাকা। তহবিল সংগ্রহে ট্রাম্পের চেয়ে এগিয়ে কমলা। কমলার পক্ষে ভোটের জন্য অর্থ সংগ্রহ ১৮০ কোটি ডলার। ট্রাম্পের ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংগ্রহ ১০০ কোটি। ডেমোক্রেটিক পার্টির সমাবেশে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্লার্কস্টন এলাকায়। ছবি: এএফপি অপতথ্যের ছড়াছড়ি বিগত কয়েক নির্বাচন থেকে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা। এবার অর্থকড়ির ছড়াছড়িও দেখছেন তাঁরা। সর্বশেষ ১৬ দিনে মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস, রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা ব্যয় করছেন আধা বিলিয়ন অর্থাৎ ৫০ কোটি মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৬ হাজার কোটি টাকা (১২০ টাকা প্রতি ডলার)। অর্থাৎ প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে ৩৭৫ কোটি টাকা। নিউইয়র্ক টাইমসের গতকাল শুক্রবারের এক খবরে বলা হয়েছে, ভোটারদের তথ্য পেতে এবং বিজ্ঞাপনের জন্য এই অর্থ ব্যয় করছেন তাঁরা। ট্রাম্প ও হ্যারিসের প্রচার শিবির এই ১৬ দিনে ব্যয় করেছে ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর এই দুই নেতার পক্ষে অন্যরা ব্যয় করেছে ২৬ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুসারে নির্বাচনী প্রচারের ব্যয়ের হিসাব দিতে হয় নির্বাচন কমিশনে। সেই হিসাব সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। কমলা হ্যারিস ১ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যয় করেছেন ১৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। নথি সূত্রে জানা গেছে, দিন দিন তাঁর এই খরচ বেড়েছে। কারণ, গত আগস্টে পুরো মাসে তিনি বিজ্ঞাপনে ব্যয় করেছেন ১৩ কোটি ডলার। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, অক্টোবরের শুরুতে কমলা হ্যারিসের প্রচার শিবিরের তহবিলে জমা পড়েছে ১৮ কোটি ২৬ লাখ ডলার। তিনি এবং প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মিলে তাঁদের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে তুলেছেন ১৮০ কোটি ডলার। অর্থ সংগ্রহে পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। অক্টোবরে তাঁর প্রচার তহবিলে জমা পড়েছে ৯ কোটি ২১ লাখ ডলার। এ ছাড়া পুরো নির্বাচনী প্রচারেও অর্থ সংগ্রহ হয়েছে কম। ২০২২ সালে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর পর থেকে চলতি অক্টোবর পর্যন্ত তিনি অর্থ সংগ্রহ করতে পেরেছেন ১০০ কোটি ডলার। অর্থ সংগ্রহ কম হওয়ায় খরচও কম করতে পেরেছেন ট্রাম্প। অক্টোবরের প্রথম ১৬ দিনে তিনি ব্যয় করেছেন ১০ কোটি ডলার। এর মধ্যে বিজ্ঞাপনে তিনি ব্যয় করেছেন ৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জুন, জুলাই ও আগস্টের চেয়ে তিনি বিজ্ঞাপনে ব্যয় বাড়িয়েছেন। তবে তাঁর হাতে আর বেশি অর্থ নেই ব্যয় করার মতো। তিনি বাকি সময়টায় ৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার ব্যয় করতে পারবেন। তবে এ তুলনায় কমলা হ্যারিসের হাতে অনেক বেশি অর্থ আছে। হিসাব অনুসারে, কমলার হাতে ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার আছে নির্বাচনের প্রচারে ব্যয় করার জন্য। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ডেমোক্রেটিক পার্টির তহবিলে কারা টাকা দিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কিছু মানুষের নাম জানা যাচ্ছে। তবে সিংহভাগ অর্থ কোথা থেকে আসছে, সেটা জানা যাচ্ছে না। কমলা হ্যারিসের প্রচারে যারা সহযোগী হিসেবে কাজ করছে, সেই সুপার পিএসির তহবিল এসেছে ৪ কোটি ডলার। এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, সেটা জানা যাচ্ছে না।  ট্রাম্পের পাশে ইলন মাস্ক ট্রাম্পের প্রচারের শুরু থেকেই আছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধনকুবের ইলন মাস্ক। আর্থিক এই খরার মধ্যে তিনি ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ট্রাম্পের জন্য গত ১৬ দিনে তিনি ব্যয় করেছেন ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ট্রাম্পের জন্য তিনি বরাদ্দ রেখেছেন ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব বলছে, আর্থিক খরা কাটাতে অতিরিক্ত ৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার ব্যয় করছেন তিনি।

গাজা-লেবাননে ‘তোমার মনে যা চায়, করো’: নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প

গাজা-লেবাননে ‘তোমার মনে যা চায়, করো’: নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প

ইরানে ইসরায়েলের হামলা শেষ, এখন শান্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে ইসরায়েলের হামলা শেষ, এখন শান্তি চায় যুক্তরাষ্ট্র

নবীরা বলে গেছেন, কিয়ামতের শুরু হবে মধ্যপ্রাচ্যেই: ট্রাম্প

নবীরা বলে গেছেন, কিয়ামতের শুরু হবে মধ্যপ্রাচ্যেই: ট্রাম্প

মিজানুর রহমান আজহারীর তাফসির মাহফিল স্থগিত

মিজানুর রহমান আজহারীর তাফসির মাহফিল স্থগিত

সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজের ইন্তেকাল

সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজের ইন্তেকাল

ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর

ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর
বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই
বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র আর নেই
অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
অভিনেত্রী মেহজাবীনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
পুথির সাজে ধরা দিলেন মিম
পুথির সাজে ধরা দিলেন মিম
কাছের মানুষ হারালেন হৃতিকের প্রাক্তন স্ত্রী
কাছের মানুষ হারালেন হৃতিকের প্রাক্তন স্ত্রী
ফিটব্যাক রিসেট-এর তৃতীয় বর্ষ উদযাপন
ফিটব্যাক রিসেট-এর তৃতীয় বর্ষ উদযাপন
রোমিও ব্রাদার্স'র জমজমাট প্রথম পাবলিক কনসার্ট
রোমিও ব্রাদার্স'র জমজমাট প্রথম পাবলিক কনসার্ট
‘নারীকে সম্মান দেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানানো হলো’
‘নারীকে সম্মান দেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার বানানো হলো’
ব্যাচেলর পয়েন্টে আর দেখা যাবে না শিমুলকে!
ব্যাচেলর পয়েন্টে আর দেখা যাবে না শিমুলকে!
সোরলথের হ্যাটট্রিক, শেষ ষোলোয় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
সোরলথের হ্যাটট্রিক, শেষ ষোলোয় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দারুণ এক রাতে নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড আলেক্সান্ডার সোরলথের হ্যাটট্রিকে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে ক্লাব ব্রুজকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৪ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। প্রথম লেগে ৩-৩ গোলে সমতা থাকায় মাদ্রিদের রিয়াধ এয়ার মেট্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ম্যাচটি ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। ২৩তম মিনিটে গোলরক্ষক ইয়ান ওব্লাকের লম্বা কিক থেকে বল পেয়ে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে দলকে এগিয়ে দেন সোরলথ। ব্রুজের গোলরক্ষক সিমন মিনিওলে বল ঠেকালেও সেটি তার হাত ফসকে জালে জড়িয়ে যায়। ৩৬তম মিনিটে কর্নার থেকে জোয়েল অরদোনিয়েজের হেডে সমতায় ফেরে ব্রুজ। তাতে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর দাঁড়ায় ৪-৪। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর তিন মিনিটের মাথায় আবার লিড নেয় অ্যাটলেটিকো। যুক্তরাষ্ট্রের মিডফিল্ডার জনি কারদোসো বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক হাফ-ভলিতে বল জালে পাঠান। সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রুজ। তবে ম্যাচের শেষভাগে সোরলথের জোড়া গোলে ভেঙে পড়ে তাদের প্রতিরোধ। ৭৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় আদেমোলা লুকমান ও আন্তোনিও গ্রিজমানের চমৎকার সমন্বয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এই নরওয়েজিয়ান তারকা। ৮৭তম মিনিটে মৌসুমের নিজের ১৫তম গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সোরলথ এবং অ্যাটলেটিকোর বড় জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে ইংল্যান্ডের লিভারপুল অথবা টটেনহাম হটস্পার।

ব্রুকের সেঞ্চুরি, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

ব্রুকের সেঞ্চুরি, পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

অতিরিক্ত সময়ের গোলে চেলসিকে হারিয়ে লিগ কাপের ফাইনালে আর্সেনাল

অতিরিক্ত সময়ের গোলে চেলসিকে হারিয়ে লিগ কাপের ফাইনালে আর্সেনাল

পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত কী করবে

পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কট, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত কী করবে

‘সুপার-আর্থে’ প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে আরও আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

‘সুপার-আর্থে’ প্রাণের সম্ভাবনা নিয়ে আরও আশাবাদী বিজ্ঞানীরা

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে চাহিদা পূরণে দক্ষতার প্রামাণ দিচ্ছেন ইমরান 

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে চাহিদা পূরণে দক্ষতার প্রামাণ দিচ্ছেন ইমরান 

অ্যানোনিমাস পেজ থেকে রহস্যময় পোস্ট, পেছনে বেটিং চক্র!

অ্যানোনিমাস পেজ থেকে রহস্যময় পোস্ট, পেছনে বেটিং চক্র!
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ
জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকে ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরবরাহ ও মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ সময়ে বাংলাদেশে দৈনিক জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ১৪ হাজার টন। এর মধ্যে ডিজেলই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়—প্রায় ১২ হাজার টন। পেট্রোলের চাহিদা প্রায় ১২০০ টন এবং অকটেনের চাহিদা প্রায় ১১০০ টন। কিন্তু সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এই চাহিদা প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশেষ করে ৭ মার্চের বিক্রির পরিসংখ্যান পরিস্থিতির পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে। গত বছর একই সময়ে যেখানে ডিজেল বিক্রি হয়েছিল প্রায় ১২ হাজার টন, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৯০০ টনে। পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় অনেক পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ী আগাম জ্বালানি কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। ফলে স্বাভাবিক বাজারের চাহিদার বাইরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এই অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দিতেই সরকার রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সীমার বেশি তেল বিক্রি করা যাবে না। একই সঙ্গে ডিপো থেকে পেট্রোল পাম্পে সরবরাহও কিছুটা কমানো হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এতে কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা কমবে এবং সীমিত মজুত দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় ডিজেল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বেশি। বর্তমানে দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন। দৈনিক প্রায় ৯ হাজার টন সরবরাহ ধরে হিসাব করলে এই মজুত প্রায় ১৩ দিন চলতে পারে। তবে আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে পাঁচটি জাহাজে আরও প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে। এই চালান যুক্ত হলে মোট মজুত দিয়ে প্রায় ২৯ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অর্থাৎ আপাতত বড় ধরনের সংকট না থাকলেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে চিত্র আরও অস্বাভাবিক। যেখানে গত বছর একই সময়ে পেট্রোল বিক্রি হয়েছিল মাত্র দেড় হাজার টনের মতো, সেখানে এবার তা বেড়ে প্রায় ১২ হাজার ৪০০ টনে পৌঁছেছে। অকটেন বিক্রিও প্রায় দশ গুণ বেড়েছে। বর্তমান মজুত ও রেশনিং অনুযায়ী পেট্রোল প্রায় ১৭ দিন এবং অকটেন প্রায় ২৫ দিন সরবরাহ করা সম্ভব। তবে এসব জ্বালানির বড় অংশ দেশেই উৎপাদিত হওয়ায় তা দ্রুত মজুত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। দেশীয় রিফাইনারি ও কনডেনসেট শোধনাগার থেকে নতুন সরবরাহ যুক্ত হলে সংকট কিছুটা কমতে পারে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত মূলত আমদানিনির্ভর। দেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়, যা চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। এর পাশাপাশি বছরে প্রায় ৪৫ লাখ টন পরিশোধিত তেল সরাসরি আমদানি করা হয়। এই পরিশোধিত তেলের বড় অংশ আসে ভারত ও চীন থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে এই সরবরাহ শৃঙ্খলেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ ভারত ও চীনের অনেক রিফাইনারি তুলনামূলক কম দামে ইরান থেকে তেল কিনে তা পরিশোধন করে। ফলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশও পরোক্ষভাবে সরবরাহ সংকটে পড়তে পারে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী দেশে বিভিন্ন জ্বালানি তেলের মজুত কয়েক সপ্তাহের চাহিদা মেটানোর মতো রয়েছে। তবে চাহিদা যদি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তেই থাকে, তাহলে এই মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে, জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং মজুত সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া এই ঝুঁকি কমানো কঠিন। অতএব, বর্তমান সংকট কেবল একটি সাময়িক বাজার পরিস্থিতি নয়—বরং এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

এলপিজি বাজারে অস্থিরতা: আমদানি জটিলতা, ভোক্তার বাড়তি চাপ

এলপিজি বাজারে অস্থিরতা: আমদানি জটিলতা, ভোক্তার বাড়তি চাপ

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরি কত?

দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরি কত?

বাংলাদেশের ডিম-মুরগিতে নিষেধাজ্ঞা দিলো সৌদি

বাংলাদেশের ডিম-মুরগিতে নিষেধাজ্ঞা দিলো সৌদি

এক নজরে ১১ কোম্পানির নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা, নো ১টি

এক নজরে ১১ কোম্পানির নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা, নো ১টি

২৩ কোম্পানি ইপিএস ও লভ্যাংশের বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা

২৩ কোম্পানি ইপিএস ও লভ্যাংশের বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা

১২ কোম্পানির ইপিএসের বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা

১২ কোম্পানির ইপিএসের বোর্ড সভার তারিখ ঘোষণা
ঘন ঘন মেজাজ খারাপের পেছনে যে হরমোন দায়ী
ঘন ঘন মেজাজ খারাপের পেছনে যে হরমোন দায়ী
শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, মানসিক সুস্থতার ওপরও হরমোনের বড় প্রভাব রয়েছে। হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন হলে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘন ঘন মেজাজ খারাপসহ নানা মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা কমে গেলে রক্তের শর্করা ও ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে সুখের অনুভূতির জন্য জরুরি সেরোটোনিন কমে যায়। একইভাবে ইস্ট্রোজেনের প্রভাবেও মানসিক স্থিরতা কমে যেতে পারে। থাইরয়েড ও অন্যান্য হরমোনজনিত রোগ থাইরয়েড হরমোন শক্তি ও বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। এর অস্বাভাবিকতা উদ্বেগ, অস্থিরতা ও মেজাজ পরিবর্তনের কারণ হতে পারে। পিসিওএস, পিসিওডি, মেনোপজ বা দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপও একই প্রভাব ফেলে। ঘুমের সমস্যা হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে মেলাটোনিনসহ ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ঠিকভাবে কাজ করে না। ঘুমের ঘাটতি বিষণ্নতা ও রাগ বাড়ায়। সন্তান জন্মের পর পরিবর্তন প্রসবের পর মায়ের ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোন হঠাৎ কমে যায়। এতে অনেক মায়ের মধ্যে প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা দেখা দেয়। খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে খাদ্যতালিকায় রঙিন ফল, শাকসবজি, অ্যাভোকাডো তেল, বাদাম, ডিমের কুসুম এবং প্রো-বায়োটিক খাবার (দই, বাটারমিল্ক, ভাতের ফ্যান) রাখুন। চিনি কমিয়ে তুলসি ও ভেষজ চা পান করলে স্ট্রেস কমে। কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন যদি দীর্ঘদিন ধরে মেজাজ পরিবর্তন, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তনসহ মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বসুন্ধরা সিটিতে নাজাত ফ্যাশন, নতুন আউটলেট উদ্বোধন

বসুন্ধরা সিটিতে নাজাত ফ্যাশন, নতুন আউটলেট উদ্বোধন

দুর্গাপূজার সঙ্গে ইলিশের কী সম্পর্ক

দুর্গাপূজার সঙ্গে ইলিশের কী সম্পর্ক

রমজানে সুস্থ থাকতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ পরামর্শ

রমজানে সুস্থ থাকতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ পরামর্শ

নামাজের সময়সূচি

শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩৩
*স্থানভেদে সময়ের পার্থক্য হতে পারে
মায়ের শেষ সম্বল ৫০ হাজার টাকায় ছেলের উদ্যোগ
মায়ের শেষ সম্বল ৫০ হাজার টাকায় ছেলের উদ্যোগ
চাকরি আবদুল বাকীকে কখনোই টানেনি। অভাবের সংসারে পরিবারের হাল ধরতে কখনো ফ্রিল্যান্সিং, কখনোবা টিউশনি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের এই শিক্ষার্থী। তাতেও মনের খেদ মিটছিল না। সব সময় উদ্যোগী হয়ে কিছু একটা করতে, উদ্যোক্তা হতে চেয়েছেন তিনি। গত ২১ সেপ্টেম্বর সেই স্বপ্নই পূরণ হয়েছে। তিন বন্ধু ও এক অনুজকে নিয়ে দিয়েছেন ‘আহার মেলা’। খাবারের এই দোকানে তাঁর সহযোগীরা হলেন রাজশাহী কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শাহাদাত হোসেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের আল-মুত্তাকিন, আরবি বিভাগের আমির হামজা ও ফারসি বিভাগের সামিউল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাডেমিক ভবনের উল্টো দিকে গেলেই চোখে পড়বে এই দোকান। আহার মেলায় ভাত, খিচুড়ি, ভর্তা, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি ও ডিমের তরকারি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৬০ ও ৭০ টাকার দুটি প্যাকেজ আছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে। আবদুল বাকী বলেন, ‘যেহেতু ক্লাস-পরীক্ষার সময়ে দোকানটি চালু থাকে, আমাদের অনেকেরও ওই সময় ক্লাস থাকে। যার যেদিন ক্লাস-পরীক্ষা থাকে, সে সেদিন থাকে না। যদি সবারই একসঙ্গে ক্লাস-পরীক্ষা থাকে, সেদিন দোকান বন্ধ রাখতে হয়।’ পারিবারিকভাবে সচ্ছল ছিলেন না বাকী। কলেজজীবন থেকে এ কাজ-ও কাজ করেছেন। দুই বছর আগে বাবা মারা গেলে আর্থিক দৈন্য আরও বেশি জেঁকে বসে। মূলত সে সময়ই ব্যবসার কথা ভাবতে থাকেন। মাকে পরিকল্পনার কথা শোনান। মা রাজি হন, নিজের শেষ সম্বল ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন ছেলের হাতে। এই মূলধনের ওপরই দাঁড়িয়ে আছে আহার মেলা। আপাতত ব্যবসা গোছানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন এই উদ্যোক্তা। ভবিষ্যতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আহারমেলার শাখা চালু করতে চান।

সফলতার সঙ্গে লেখাপড়ার সম্পর্ক কতটুকু

সফলতার সঙ্গে লেখাপড়ার সম্পর্ক কতটুকু

প্রাণবন্ত ক্যাম্পাসে এখন গবেষণায় জোর

প্রাণবন্ত ক্যাম্পাসে এখন গবেষণায় জোর

২৪ ঘণ্টাই পাশে থাকবে ‘অটোমামা’

২৪ ঘণ্টাই পাশে থাকবে ‘অটোমামা’

শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার জন্যও : প্রধান উপদেষ্টা

শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, সৃজনশীল মানুষ গড়ার জন্যও : প্রধান উপদেষ্টা

ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানো নিয়ে যা বললেন ঢাবি উপাচার্য

ডাকসু নির্বাচনের ব্যালট পেপার ছাপানো নিয়ে যা বললেন ঢাবি উপাচার্য

রাকসুর পর পেছালো চাকসু নির্বাচনও

রাকসুর পর পেছালো চাকসু নির্বাচনও