
সংগীতপ্রেমীদের কাছে ‘কোক স্টুডিও’ মানেই এক অন্যরকম আবেগ। তবে বাংলাদেশ, ভারত কিংবা পাকিস্তান তিন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে ভক্তদের তর্ক-বিতর্ক লেগেই থাকে। এবার সেই চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করলেন উপমহাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী আতিফ আসলাম। এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলাভাবে জানালেন, পাকিস্তানের কোক স্টুডিওর যে প্রাণ ও আবেদন, তার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারছে না ভারতীয় সংস্করণটি।
ভারতের কোক স্টুডিওতে সেই বিশেষ ‘জাদু’ অনুপস্থিত বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি মির্চি ইউএই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুই দেশের এই ফ্ল্যাগশিপ মিউজিক শোর সুর ও আয়োজনের মূল পার্থক্য তুলে ধরেন এই তারকা। উপস্থাপক যখন জানতে চান পাকিস্তানি কোক স্টুডিও ঠিক কোন দিক থেকে এগিয়ে? কোনো দ্বিধা না রেখে মুচকি হেসে আতিফের এক শব্দের উত্তর ছিল, “জাদু!”
তিনি জানান, সুরের দিক থেকে দুই দেশই দুর্দান্ত কাজ করছে, কিন্তু ভারতীয় সংস্করণে এক ধরনের যান্ত্রিকতা বা অতিরিক্ত বাণিজ্যিক ভাবনা ঢুকে পড়েছে। আতিফের কথায়, ‘ভারতের কোক স্টুডিও অতিরিক্ত বাণিজ্যিক নির্ভর হয়ে পড়েছে, সেই জাদু নেই। অন্যদিকে পাকিস্তান সব সময় সুরের মৌলিকতা ও মাটির খাঁটি গন্ধ ধরে রাখতে বিশ্বাস করে। এখানে শিল্পীরা জীবন-মরণ বাজি রেখে কাজ করেন, আর সেই সাথে থাকে নিজের মনের মাধুরী মেশানোর পূর্ণ স্বাধীনতা।’
কোক স্টুডিও পাকিস্তানের সাফল্যের অন্যতম কাণ্ডারি আতিফ আসলাম নিজে। সিজন ৮-এ তার গাওয়া সুফি গান ‘ তাজদারে হারাম’ কিংবা সিজন ১২-এর ‘ওহি খোদা হ্যায়’ শ্রোতাদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে। এমনকি সিজন ১৪-এর ‘সাজন দাস না’ কিংবা ‘গো’-এর মতো আধুনিক পপ-ফিউশন গানেও তিনি নিজের রাজত্ব কায়েম রেখেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে ‘জহের’ সিনেমার ‘ভো লামহে’ গান দিয়ে বলিউড জয় শুরু করেছিলেন আতিফ। এরপর ‘তেরে বিন’, ‘পেহলি নজর মে’, ‘তু জানে না’, ‘জিনা জিনা’ কিংবা ‘দিল দিয়া গাল্লা’-র মতো কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন তিনি। সুদীর্ঘ ১৯ বছর পর নিজের নতুন অ্যালবাম ‘সুবাহ আয়ে না’ নিয়ে হাজির হয়েছেন ‘আদত’ খ্যাত এই গায়ক। এই অ্যালবাম প্রসঙ্গে আতিফ জানান, কোনো প্রথাগত নিয়মে বন্দি না থেকে নিজের মতো গান বানানোর তাগিদ থেকেই নতুন এই সূচনা।