কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ২৫০

ফানাম নিউজ
  ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৪

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০-এ দাঁড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকা থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিভিন্ন ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্বত্য শহর পেরেইরায়। সেখানে ১০১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরপরই রয়েছে দেশটির অন্যতম বড় শহর কালি।

মঙ্গলবার কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টায় অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চোকো প্রদেশ পরিদর্শন করেছেন দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা। দুর্গতদের জন্য তিনি ১ হাজার ৮০ কোটি ডলারের বেশি সহায়তা বাজেট ঘোষণা করেছেন।

উদ্ধার অভিযানে সরকারি দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি ন্যাশনাল কফি ফেডারেশনের স্বেচ্ছাসেবকরাও অংশ নিয়েছেন। উল্লেখ্য, কলম্বিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কফি উৎপাদনকারী দেশ।

পেরেইরা শহরে ভূমিকম্পের সময় স্বামী ও ১০ মাসের শিশুসন্তান নিয়ে একটি গেস্ট হাউসে ছিলেন রোসা গঞ্জালেস। তিনি জানান, ভূমিকম্প শুরু হলে তারা দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে আসেন। বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গেস্ট হাউসটি ধসে পড়ে।

ভূমিকম্পের ভয়াবহতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার জোসে গাল্লেগো জানান, পেরেইরা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বহু মানুষকে আহত অবস্থায় দেখেছেন। অনেকেই আতঙ্কে পরিবারের সদস্যদের খুঁজছিলেন।

ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। কালি শহরেও অনেক বাসিন্দাকে রাস্তায় রাত কাটাতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপে নিজেদের মূল্যবান জিনিসপত্র খুঁজছেন।

কালির স্বাস্থ্য সচিব গেরমান এস্কোবার জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে শহরটির প্রধান মর্গে মরদেহ রাখার জায়গা প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়