
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর দুই সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণার জন্য প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্যানেলটি এ আদেশ দেন। প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ, অপর সদস্য ছিলেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত ২২ জানুয়ারি প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দিনব্যাপী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তিনি আদালতের সামনে মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি, তদন্ত কর্মকর্তার জব্দকৃত আলামত এবং বিভিন্ন নথিপত্র উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব প্রমাণে আসামিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৪ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জেরা শেষ হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে।
মামলার ৩০ আসামির মধ্যে ৬ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল, আনোয়ার পারভেজ।
অন্যদিকে বাকি ২৪ আসামি পলাতক, যার মধ্যে বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদ রয়েছেন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত চারজন আইনজীবী আইনি লড়াই চালাচ্ছেন।
মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় গত ২৭ আগস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে। এর আগে ৬ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে। তদন্ত সংস্থা ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ৩০ জুন আদালত তা গ্রহণ করে।
এই পর্ব শেষে আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। এরপর মামলাটি রায়ের পর্যায়ে যাবে।