রো‌হিঙ্গা‌ প্রত্যাবাস‌নে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে

ফানাম নিউজ
  ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৭

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) আয়োজিত ‘কনফ্লুয়েন্স ২০২৬: অংশীদারিত্ব, স্বীকৃতি ও প্রতিশ্রুতির এক সম্মিলন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার নয় বছর পূর্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর ও অর্থবহ চাপ সৃষ্টি করা জরুরি।

তিনি বলেন, শুধু প্রত্যাবাসনের ওপর নির্ভর না করে তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনসহ রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সুযোগ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সংকটের বোঝা বহনে সহায়তা করতে হবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে কোনোভাবেই আরও বিস্তৃত সংকটে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এ সংকটের সমাধানকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে।

‘আমরা কেবল মানবিক সহায়তার মাধ্যমে এই সংকট পরিচালনা করতে চাই না; বরং রোহিঙ্গা সংকটের একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধান অর্জনে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,’ বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক হাসিনা রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের নয় বছর পার হয়ে গেছে। গতানুগতিক পদ্ধতিতে আগামী বছরগুলোতে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মানবিক সহায়তার তহবিল কমে আসার পাশাপাশি বিশ্ববাসীর মনোযোগও এ সংকট থেকে অন্যদিকে সরে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সংকটের টেকসই সমাধান এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে।

রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী লাকি করিম বলেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মিয়ানমারের রাখাইনে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও টেকসই জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এতে মানবিক সহায়তার ওপর রোহিঙ্গাদের নির্ভরশীলতা কমবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়