ফ্যাসিস্টের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি: রাষ্ট্রপতি

ফানাম নিউজ
  ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন ও সেখানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি, কিন্তু এর জন্য মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের ঋণ রাষ্ট্র কখনো শোধ করতে পারবে না। বাংলাদেশে যেন আর কোনোদিন এমন মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সস্ত্রীক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে যান রাষ্ট্রপতি। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম সঙ্গে ছিলেন।

জাদুঘরে পৌঁছালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রপতি দর্শনার্থী টিকিট নিয়ে জাদুঘরে প্রবেশ করেন। পরে ‘লংওয়াক টু ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার বিভিন্ন ধাপের ঐতিহাসিক চিত্র দেখেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে নিহতদের স্মরণে নির্মিত মেমোরিয়াল ও রেপ্লিকা আয়নাঘরও পরিদর্শন করেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ করেন রাষ্ট্রপতি।

এ ছাড়া তিনি জাদুঘরের বিডিআর ম্যাসাকার, শাপলা ম্যাসাকার, নির্যাতনসামগ্রী ও জোরপূর্বক গুমের বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। শহিদদের চিঠি, স্মারক ও স্মৃতিচিহ্ন দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং শিক্ষার্থী-জনতার আন্দোলনের নানা স্মৃতিও প্রত্যক্ষ করেন রাষ্ট্রপতি।

পরে জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন তিনি। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের সময়ও রাষ্ট্রপতিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত সবার দ্রুত সুস্থতা ও কল্যাণ কামনা করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে শহিদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের ত্যাগ ও সাহসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

পরিদর্শনকালে জুলাই জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জাদুঘরের বিভিন্ন স্থাপনা ও সংরক্ষিত দলিলপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে ব্রিফ করেন জুলাই জাদুঘরের গবেষণা দলের সদস্য জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়