রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

ফানাম নিউজ
  ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৪
আপডেট  : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫

রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের জন্য রাষ্ট্রের অধিকার সমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি একজন মুসলমান। আমাকে রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল। মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে আমি হয়তো সংখ্যাগুরু। কিন্তু এই দেশের ওপর আপনার যে অধিকার আছে, এই দেশের ওপর আমারও সেই অধিকার আছে। এই রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে, এই রাষ্ট্র আমাকেও তাই দেবে।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছিলেন। তখন কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় ভুলে একসঙ্গে রাজপথে নেমেছেন। ভোটের অধিকার ও কথা বলার স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কেউ সহযোদ্ধার ধর্ম জানতে চাননি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। মা-বোন, শিশু, তরুণ ও যুবকসহ লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের ধর্মীয় পরিচয় তখন মুখ্য ছিল না।

তিনি বলেন, আন্দোলন দমনে গুলি চালানো হলে অনেকে শহীদ হন, অনেকে আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরাও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করেননি। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিষ্টান—তা বিবেচনা না করেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সবার।’ ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা সব মানুষই এ দেশের নাগরিক। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ই সবার অভিন্ন পরিচয়।

একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের সবার আকাঙ্ক্ষা ছিল এমন একটি দেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং মিলেমিশে থাকবে।

তিনি বলেন, ‘আসুন না, আমরা সবাই মিলে সেই বাংলাদেশটি, প্রত্যাশিত বাংলাদেশটি গড়ে তুলি, যেই বাংলাদেশের জন্য দল, মত, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে অকাতরে আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি।’

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি সবার সহযোগিতা চান। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বক্তব্যের শেষে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের সব নাগরিকের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে রংপুর ও রাজশাহীতে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়