
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ সংঘর্ষে একদিনেরও কম সময়ে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। রোববার উভয় পক্ষের সামরিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা জানান, শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর অন্তত ৮৪ সৈন্য নিহত হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই রকেট হামলায় নিহত হন।
অন্যদিকে, হুথিদের চারটি সূত্র জানিয়েছে, একই সময়ে তাদের ৫৭ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ফলে উভয় পক্ষ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪১ জনে।
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক ফ্রন্টে সাম্প্রতিক সময়ে লড়াই তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে তায়েজ ও হোদাইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগর উপকূলীয় এলাকায় সংঘর্ষ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
রোববার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, হোদাইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে তারা। এলাকাটি হোদাইদা, তায়েজ ও ইব্ব প্রদেশের সংযোগকারী সড়কের কাছে অবস্থিত।
সরকারি বাহিনী পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং ডজনখানেক হুথি যোদ্ধাকে আটক করার দাবি করেছে। তায়েজ ও লাহজের আশপাশেও সংঘর্ষ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দেশটির সংঘাত তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। ওই বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিক অস্ত্রবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও এর প্রভাবে কয়েক বছর দেশজুড়ে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকটি প্রদেশে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তায়েজ ও হোদাইদায় হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও সমাবেশ লক্ষ্য করে শুক্রবার অন্তত ১৫টি বিমান হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী।
এদিকে চলমান সংঘাতে বেসামরিক নাগরিকদেরও বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তায়েজে সংঘাত বাড়ার পর মাত্র দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইয়েমেনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা সাবার খবরে বলা হয়েছে, তায়েজ ও এডেনের মধ্যবর্তী সড়কে বেসামরিক নাগরিকদের একটি সমাবেশে হুথিদের গোলাবর্ষণে চারজন নিহত এবং আরও নয়জন আহত হয়েছেন।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সেখান থেকে বিতাড়িত করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
বর্তমানে হুথিরা রাজধানী সানা এবং ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। হুথিদের সমর্থন দিচ্ছে ইরান এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করছে সৌদি আরব।
সূত্র: এএফপি