ইরানে ফের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, ট্রাম্পের অনুমতির অপেক্ষা

ফানাম নিউজ
  ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৯

ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। অনুমতি পেলে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের দুই কর্মকর্তা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, সম্ভাব্য অভিযানের পরিধি শুধু রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র কিংবা সামরিক স্থাপনা ধ্বংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা ও পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, এটি বেশ বড় ধরনের অভিযান হতে পারে। সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের কয়েকজনও একই ধরনের ধারণা দিয়েছেন।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদিও অতীতেও ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে শেষ মুহূর্তে সরে এসেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক বাহিনী এখন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি অবগত। ফলে সম্ভাব্য অভিযানে সব লক্ষ্যবস্তু কার্যকরভাবে ধ্বংস করা মার্কিন বাহিনীর জন্য কঠিন হতে পারে।

এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলোর বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানে নতুন করে হামলা চালালে তেহরান ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন কর্মী ও স্থাপনাগুলো হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে এ-সংক্রান্ত তৎপরতা অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে বলেও গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান বা হুথিরা এ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগাম বড় ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাবনা কম। কিন্তু ইরানকে লক্ষ্য করে প্রথমে হামলা চালানো হলে তারা পাল্টা জবাব দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কর্মী সরানোর উদ্যোগ

সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়া বা তাঁদের সংখ্যা কমিয়ে আনার উদ্যোগ চলতে পারে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে কর্মীদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য দূতাবাসগুলোতেও একই ধরনের নির্দেশনা আসতে পারে বলে সূত্রগুলোর ধারণা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে পরবর্তী সময়ে যেসব মার্কিন সামরিক সদস্যের মোতায়েন হওয়ার কথা ছিল, তাঁদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের পাঠানো স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা

এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার রোববার হরমুজ প্রণালী পরিদর্শন করেছেন। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে করে প্রণালীর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সেখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি জলপথটি থেকে মাইন অপসারণে নিয়োজিত সামরিক সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, উপসাগরীয় অংশীদার ও নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে যুক্ত পক্ষগুলোর পাশে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল বাড়লেও সম্ভাব্য ইরানি হামলার আশঙ্কায় তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, প্রণালী ঘিরে বর্তমান আপাত শান্ত পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক সমাধান না এলে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তবে সম্ভাব্য সংঘাতের অবসানে হোয়াইট হাউসের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল কী, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

সূত্র: সিএনএন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়