
ঘন কুয়াশায় আজও ঢেকে আছে দেশের অধিকাংশ এলাকা। কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। পৌষের হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে মানুষ। টানা তিন দিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার ২১টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। এর মধ্যেই শীত নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সংস্থাটির পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ৬ জানুয়ারি সকাল থেকে শীতের তীব্রতা আবার বাড়তে পারে। সে সময় দেশের কোথাও কোথাও তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, শনিবার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে। জানুয়ারি মাসে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার নজির রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি শীত মৌসুমে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি হবে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার (৮–১০ থেকে ৬–৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং এক থেকে দুটি হতে পারে মাঝারি থেকে তীব্র (৬–৮ থেকে ৪–৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ।
এদিকে যশোরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। শুক্রবার যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবারও একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। চলতি শীত মৌসুমে চার দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরেই রেকর্ড হলো।
টানা শীত ও কুয়াশার দাপটে শহর ও গ্রামে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে সড়ক-মহাসড়ক। এর প্রভাব পড়েছে বিমান, সড়ক ও নৌ যোগাযোগে। গতকাল সকালে ঘন কুয়াশার কারণে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়। ফ্লাইটগুলো চট্টগ্রাম, কলকাতা ও ব্যাংককে পাঠানো হয়। সড়কে কুয়াশার কারণে বেশ কয়েকটি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, গত তিন দিন ধরেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ চলছে। বর্তমানে সাতটি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ৩১ ডিসেম্বর প্রথম দফায় বরিশাল ও খুলনা বিভাগসহ কয়েকটি এলাকায় শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছিল, পরে তা কিছুটা কমে। তবে ৬ থেকে ১২ জানুয়ারির মধ্যে আবার শৈত্যপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। দু-একটি এলাকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কাও রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার শীতের তীব্রতা বেশি বলে তিনি জানান।
আজ মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় তা সাময়িকভাবে প্রশমিত হতে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ শনিবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যানবাহন চালকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে, মৌসুমি লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করলেও আপাতত দেশের কোথাও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
গতকাল সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহজুড়েই কনকনে শীতের আমেজ বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।