
ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতায় অবদান রাখায় ১০ সাংবাদিককে কৃতজ্ঞতা স্মারক প্রদান করেছে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম।
মঙ্গলবার রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের মেজর হায়দার মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এ ১০ সাংবাদিককে কৃতজ্ঞতা স্মারক প্রদান করা হয়।
স্মারক প্রদান শেষে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে ‘ক্যান্সার পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী এবং গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার।
আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিকেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মনজুর কাদির আহমেদ, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার মসিহউদ্দিন শাকের।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাঈদ উজ-জামান অপু, কমিউনিটি অনকোলজি সেন্টার ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মোসাররত সৌরভ, ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ হুমায়ন কবির, নারী উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাশহুদা খাতুন শেফালী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক ভূমিকার জন্য ১০ জন সাংবাদিককে কৃতজ্ঞতা স্মারক প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন— প্রতীক ইজাজ (যুগ্ম সম্পাদক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সমাজকাল’), পল্লব মোহাইমেন (সমন্বয়ক, প্রযুক্তি সংবাদ, প্রথম আলো), বিউটি আকতার (ফিচার ইনচার্জ, আমার দেশ), সুরায়া মুন্নি (জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, মোহনা টিভি), তাপসী রাবেয়া আঁখি (সিনিয়র রিপোর্টার, দেশ রূপান্তর), শিমুল মাহমুদ নাঈম (নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের কণ্ঠ), মোহাম্মদ আল আমিন (উপ-সম্পাদক, ডেইলি সান), জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না (সম্পাদক, সাপ্তাহিক পঙক্তি), বিশাখা দেবনাথ (বাণিজ্য সম্পাদক, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস) এবং মো. আজাদুল ইসলাম (আদনান) (স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক আমার দেশ)।
স্মারক গ্রহণকালে উপস্থিত ৮ জন সাংবাদিক তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করে ক্যান্সার সচেতনতার কাজে আজীবন যুক্ত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং ডা. রাসকিনের নেতৃত্বে এই কার্যক্রমে সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।
সূচনা বক্তব্যে ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) ২০২৫-২০২৭ এই তিন বছরের জন্য এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে। প্রতিটি ক্যান্সার রোগীর অভিজ্ঞতা আলাদা—তাদের দুঃখ-কষ্ট, আনন্দ-বেদনা ও গল্পও ভিন্ন। তাই ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রোগ নয়, রোগীকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং বছরে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ জন ক্যান্সারে মারা যান। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেশে প্রায় ৩০টি ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও সব কেন্দ্রে সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা নেই। এই বাস্তবতায় চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতিরোধযোগ্য উপাদান সম্পর্কে মানুষকে জানাতে হবে, কী বর্জন করতে হবে এবং কী গ্রহণ করা প্রয়োজন সে বিষয়ে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি ক্যান্সারের প্রাথমিক সাতটি সতর্ক সংকেত সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করতে হবে।
ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণে একটি জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ কৌশলপত্র, কর্মপরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন জরুরি, যা বর্তমানে দেশে নেই।
তিনি আরো জানান, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের মেডিকেল কলেজগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম বিস্তৃত করা প্রয়োজন, যাতে লক্ষণ প্রকাশের আগেই সহজ পদ্ধতিতে ক্যান্সার শনাক্ত করা যায়।