অনিয়ম–জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন হাসিনা কন্যা পুতুল

ফানাম নিউজ
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৮

অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তের মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

সম্প্রতি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন সায়মা ওয়াজেদ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ওই পদত্যাগপত্র দেখেছে।

সায়মা ওয়াজেদের বিরুদ্ধে চীন সফরের আর্থিক ব্যয় নিয়ে অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তদন্ত করছে ডব্লিউএইচও। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্যদেশগুলোর ভোটে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে বেতন ছাড়া ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। পদত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি ওই ছুটিতেই ছিলেন।

চলতি বছরের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, চীন সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক অনিয়ম এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরতের আবেদনে সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সায়মা ওয়াজেদের দাবি, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং বিষয়টি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালককে জানিয়েছিলেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ অভিযোগ করেন, তাঁকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় বেতন ছাড়া ছুটিতে থাকায় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এসব কারণে তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সংস্থাটি গত মাসেও সায়মা ওয়াজেদের ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে বিস্তারিত জানায়নি।

জানা গেছে, আঞ্চলিক পরিচালকের পদে নতুন নির্বাচনের প্রক্রিয়া আগামী অক্টোবরে শুরু হতে পারে। মনোনয়ন ও আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আগামী বছরের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়