
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে চার রুটে শুরু হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চ কর্মসূচি। ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম দিয়ে শুরু হওয়া লং মার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে আয়োজন করতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
এ বিষয়ে সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) সঙ্গে বৈঠক করেছেন জোটের নেতারা।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের একটি প্রতিনিধি দল আইজিপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। বৈঠকে লং মার্চের বিভিন্ন রুট, পথসভা এবং কর্মসূচির সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সার, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন গণদাবি সামনে রেখে লং মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সারা দেশে চারটি রুটে লং মার্চ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের বিষয়ে আইজিপিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। বৈঠকে লং মার্চের রুট ও পথসভার স্থানগুলো সম্পর্কে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে এবং লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, কর্মসূচিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের সঙ্গে আছি।’
বৈঠকে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এলডিপির মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি নিজামুল হক নাঈমসহ অন্য নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের দাবিতে গত ৬ আগস্ট ঢাকায় মহাসমাবেশসহ চার বিভাগে লং মার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে লং মার্চ দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরে, ১০ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনায় এবং ২৪ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেটে লং মার্চ হবে। আর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে আগামী ১৪ নভেম্বর।
১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে লং মার্চ সম্পন্ন করাই তাদের লক্ষ্য। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদেরও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হবে।