বাংলাদেশকে হতাশ করে অবিশ্বাস্য ড্র আফগানিস্তানের

ফানাম নিউজ
  ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪২

জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। জয়ের পাল্লাও ভারী ছিল টাইগারদের দিকে। তবে সেদিকুল্লাহ আতালের সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদের দৃঢ়তায় অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ ড্র করেছে আফগানিস্তান। একের পর এক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারায় জয় হাতছাড়া হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আবুধাবিতে টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে আফগানিস্তান। বড় লক্ষ্য তাড়া করার চাপ থাকলেও শুরু থেকেই উইকেট আগলে রেখে ড্রয়ের দিকে মনোযোগ দেন আগের দিনের অপরাজিত দুই ব্যাটার সেদিকুল্লাহ আতাল ও হাশমতউল্লাহ শহীদি।

একাধিকবার বোলিং পরিবর্তন করেও শুরুতে সাফল্য পাচ্ছিলেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। স্পিনাররাও প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছিলেন না। উইকেটে ফাটল থাকলেও তা থেকে খুব বেশি সুবিধা আদায় করতে পারেননি বাংলাদেশের স্পিনাররা।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ব্যাটিং করতে গিয়ে প্রথম সেশনেই ক্র্যাম্পের কারণে মাঠ ছাড়েন শহীদি। তার ব্যাট থেকে আসে ৩৩ বলে ২০ রান।

লাঞ্চের কিছুক্ষণ আগে উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ৭৮তম ওভারের প্রথম বলে এবাদত হোসেনের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় বল লাগান ইকরাম আলিখিল। উইকেটের পেছনে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। ৬৯ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন ইকরাম।

এরপর সেদিকুল্লাহ আতালের সঙ্গে জুটি গড়েন ইসমত আলম। দুজন মিলে যোগ করেন ৪০ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইসমত। ৬০ বল খেলে মাত্র ৪ রান করেন তিনি।

এরপর আবারও ব্যাটিংয়ে ফেরেন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়া হাশমতউল্লাহ শহীদি। তবে এবারও জুটি ভাঙেন মিরাজ। তার বলে হাসান মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শহীদি। আউট হওয়ার আগে ৬৯ বলে ৩৬ রান করেন তিনি।

অন্যদিকে একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান আতাল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন এই আফগান ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ৩৩২ বল খেলে ১১১ রান করে তাইজুল ইসলামের বলে আউট হন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা।

আতালের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দিনের তখনো ২৩.২ ওভার বাকি। শেষ দিকে আফগানিস্তানের টেলএন্ডারদের দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে জয় তুলে নেওয়ার সুযোগ ছিল টাইগারদের সামনে।

কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। অষ্টম উইকেটে ইয়ামিন আহমাদজাই ও কায়েস আহমেদ দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের বোলাররা কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ফিল্ডাররা।

শেষ পর্যন্ত ৮৫ বলে ১৯ রান করে আহমাদজাই আউট হলেও বাংলাদেশের জয়ের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। কায়েস আহমেদ ও জিয়াউর রহমান বাকি সময়টুকু পার করে দেন। ৮০ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন কায়েস। শূন্য রানে অপরাজিত থাকেন জিয়াউর রহমান।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নেন এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এছাড়া হাসান মাহমুদ ও নাঈম হাসান নেন একটি করে উইকেট।

শেষ দিনে জয়ের খুব কাছে গিয়েও সুযোগ হাতছাড়া করায় হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অন্যদিকে সেদিকুল্লাহ আতালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি এবং শেষ দিকে ব্যাটারদের প্রতিরোধে স্মরণীয় এক ড্র আদায় করে নিয়েছে আফগানিস্তান।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়