
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের (বিজেএমসি) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও কথিত কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংস্থাটির কয়েকজন কর্মকর্তা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিজেএমসির পরিচালক (পরিকল্পনা) মাসুম পাটোয়ারী, পরিচালক (বিপণন) এরশাদ হোসেন খান, উপব্যবস্থাপক (বিপণন) ও পরিচালক (বিপণন)-এর পিএসটু জয়নাল আবেদীন এবং অফিস সহায়ক মনির হোসেন ইজারা প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ইজারা-সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথিত কমিশন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অফিস সহায়ক মনির হোসেন ও উপব্যবস্থাপক জয়নাল আবেদীনের মাধ্যমে কমিশন-সংক্রান্ত যোগাযোগ করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও যাচাই করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি বিজেএমসির দুটি প্রতিষ্ঠান আরএফএলের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব ইজারায় প্রতিষ্ঠান বাছাই, দরপত্র মূল্যায়ন, অনুমোদন এবং ইজারা মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এদিকে ইজারা নিয়ে অভিযোগের মধ্যেই বিজেএমসির পরিচালক (বিপণন) এরশাদ হোসেন খানের বদলির প্রজ্ঞাপন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৬ জুন ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনে তাকে বিজেএমসির পরিচালক পদ থেকে বদলি করে ঢাকা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে ১৭ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে অবমুক্ত না হলে ১৮ জুন অপরাহ্ণে তাকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এরশাদ হোসেন খান বিজেএমসির পরিচালক (বিপণন) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে বদলির প্রজ্ঞাপনের পরও তিনি কীভাবে একই পদে রয়েছেন এবং তাকে বহাল রাখার বিষয়ে কোনো পরবর্তী প্রশাসনিক আদেশ বা অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীরা বিজেএমসির ইজারা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠান, দরপত্রে অংশগ্রহণকারী, মূল্য নির্ধারণ, মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।