
নির্বাচনী প্রচারণার সময় মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে সতর্ক করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এ ছাড়াও যুবসমাজকে এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলার প্রসঙ্গ টেনে এ হুঁশিয়ারি দেন জামায়াত আমির। জনসভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
জনসভায় জামায়াত আমির সরাসরি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নিজেকে ও দেশকেও মুক্তির পথে এগিয়ে নিন। তাঁর মতে, এটি কেবল ভোট নয়, বরং রাজনীতির ধারা পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যেখানে জনগণের সিদ্ধান্তই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
ডা. শফিকুর রহমান যশোরের উন্নয়ন চাহিদাকে যৌক্তিক উল্লেখ করে বলেন, দেশের অন্যতম প্রাচীন জেলা হওয়া সত্ত্বেও যশোর দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রয়ে গেছে।
তিনি যশোরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজের সম্প্রসারণ, জেনারেল হাসপাতালের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ভৌত অবকাঠামোর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় গেলে এসব দাবি বাস্তবায়নকে জামায়াত নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনকে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, এটি কেবল ক্ষমতা বদলের লড়াই নয়; বরং জনগণের রায়ের মাধ্যমে রাজনীতির গতিপথ পাল্টে দেওয়ার সুযোগ।
পরিবারকেন্দ্রিক বা গোষ্ঠীগত রাজনীতির পরিবর্তে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
নারীদের প্রতি আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেসব দল প্রকাশ্যে নারীদের কল্যাণের কথা বলে নানা প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদেরই নির্বাচনী প্রচারে নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘটনা ঘটে-যা পুরো সমাজের জন্য লজ্জাজনক।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, মায়েদের অসম্মান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন কখনোই নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। তবে একই সঙ্গে যুবসমাজকে এ ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। সংঘাতে না জড়ানোর দিকে নজর রাখতে হবে।
জনসভায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ও ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে স্লোগান ওঠে। জামায়াত আমির বলেন, জনগণের অধিকার, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে।
যশোরবাসীর প্রতি জামায়াত আমির আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে আমরা যুক্ত হই।’