
ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির ছয়জন নেতাকে নতুন করে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তারা সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। খুলনা, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটিতেও বিএনপি নেতারা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিটি কর্পোরেশন আইন অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আস্থা রেখেছেন। আমরা জনগণের আস্থা অর্জন করে তারপর নির্বাচন করব।’
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন এখনও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করেনি। কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আইন-কানুন ও বিভিন্ন রিপোর্ট খতিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচন আয়োজনে কিছু ধরনের জটিলতা থাকতে পারে।’
স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা বলছেন, মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ নিয়ে গঠিত হয় সিটি করপোরেশন। শুধু মেয়র পদে প্রশাসক বসালে নাগরিক সুবিধা কতখানি নিশ্চিত হবে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, ‘মেয়র ও কাউন্সিলর পদ শূন্য থাকলে নাগরিক সেবা পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়া অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্বাচন হবে। যেখানে মেয়াদ আগে শেষ হবে, সেখানে আগে নির্বাচন হবে। রাজনৈতিক প্রশাসকরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে সেবা নিশ্চিত করতে পারবেন।
রাজনৈতিক মহলে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী এই নিয়োগকে ‘গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এনসিপি বলছে, দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশন গঠন না হলে নাগরিক ভোগান্তি ও রাজনৈতিক জটিলতা উভয়ই বাড়তে পারে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র এবং পাতানো নির্বাচনের প্রথম ধাপ।
একই অবস্থান জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির। দলটি মনে করছে, বিগত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা সিটিসহ সিটি এলাকাগুলোতে ‘বিএনপির ভোটের অবস্থান ভালো না হওয়ায়’ এই মুহূর্তে নির্বাচনে আগ্রহী না বিএনপি।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিটি কর্পোরেশনগুলোতে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। আর নির্বাচন আয়োজন করার আইনি বাধ্যবাধকতার সময়ও পার হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় নাগরিক ভোগান্তি কমাতে দ্রুত নির্বাচন দরকার।
দলটি বলছে, এই নির্বাচন নিয়ে একটা সংকট দেখছেন তারা ও তাদের শরিক জোট জামায়াতে ইসলামীও। এমন অবস্থায় দ্রুতই নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া না হলে তারা জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে নামারও ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনগুলো গঠন করা না হলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হবে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।