স্বস্তির ঈদযাত্রায় ‘অস্বস্তি’ বাড়তি ভাড়া

ফানাম নিউজ
  ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৭:১৭

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লেও এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তির। তবে এই স্বস্তির মধ্যেই বাস টার্মিনালগুলোতে বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগাম টিকিট না কাটা যাত্রীরা কাউন্টার থেকে টিকিট নিতে গিয়ে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দিচ্ছেন।

রাজবাড়ীগামী যাত্রী মো. অন্তর বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া ৩৯০ টাকা, কিন্তু আজ ৭০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। শেষ টিকিট ছিল, তাই নিতে হয়েছে। 

পাংশাগামী মো. কাউছার জানান, ৪০০ টাকার টিকিট ৭০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। মাগুরাগামী ইব্রাহিম বলেন, অন্য সময় ৫০০-৫৫০ টাকা লাগে, এখন ৭০০ টাকা দিতে হচ্ছে। ঈদে এটা প্রায় নিয়মই হয়ে গেছে।

তবে পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য ভিন্ন। সৌহার্দ্য পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার ইমরান বলেন, সাধারণ সময়ে যাত্রীসুবিধার জন্য সরকারি নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ১০০ থেকে ২০০ টাকা কম নেওয়া হয়। ঈদের সময় সরকারি চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নেওয়ায় তা বেশি মনে হচ্ছে। একই কথা বলেন সাকুরা পরিবহনের ম্যানেজার মো. আল আমিন।

বিআরটির ভিজিল্যান্স টিমের সহকারী পরিচালক মইনুল হাসান বলেন, টার্মিনালের ভেতরে সব কাউন্টারে ভাড়ার তালিকা টানানো আছে। অভিযোগগুলো মূলত টার্মিনালের বাইরের। এ ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যাত্রাবাড়ী এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। পদ্মা সেতুমুখী অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডে গোপালগঞ্জগামী যাত্রী মো. আরাফাত হোসেন অভিযোগ করেন, ২৫০-৩০০ টাকার ভাড়া এখন ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহনকর্মীরা বলছেন, জ্বালানি সংকট ও ট্রিপ কমে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে। অনেক বাস যাত্রী নামিয়ে খালি ফিরছে, ফলে ভাড়া সমন্বয় করতে হচ্ছে। নড়াইলগামী যাত্রী মো. সোহাগ মিয়া জানান, ৪৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে।

অন্যদিকে, কল্যাণপুর ও গাবতলী টার্মিনালে যাত্রীচাপ থাকলেও আগাম টিকিটধারীরা তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছেন। শেষ মুহূর্তে টিকিট পেতে অনেককে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পরিবহনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে, বাতিল হওয়া টিকিটই এখন বিক্রি করা হচ্ছে।

মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকেও কিছু যাত্রী বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। দাবি করা ভাড়া না দিলে বাসে তুলতে অনীহা দেখানোর কথাও জানিয়েছেন কয়েকজন যাত্রী।

রেলপথে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীচাপ থাকলেও ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাড়তি নজরদারি ও টিকিট যাচাই ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রা গতবারের তুলনায় কিছুটা স্বস্তির হলেও বাড়তি ভাড়া যাত্রীদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, তদারকি জোরদার ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়লে এই সমস্যার কিছুটা সমাধান সম্ভব।

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়