হানিফসহ আ.লীগের ৪ নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ২৯ অক্টোবর

ফানাম নিউজ
  ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৪

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঘোষণা করা হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায়ের দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন আইনি লড়াই করছেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, জহিরুল আমিন, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষ হয়। পরে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২।

গত ৫ অক্টোবর চার নেতার সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে প্রসিকিউশন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

প্রসিকিউশন জানায়, মামলাটির বিচার কার্যক্রম আগেই শেষ হয়েছিল। তবে নতুন করে কিছু অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

প্রসিকিউটর তামিমের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুবউল আলম হানিফ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আন্দোলন দমনে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন এবং অধীনস্তদের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি একজন বেসামরিক নেতা হিসেবে নির্দেশনা ও টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখেন।

প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিম একই অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা পেয়েছেন। একই অবস্থানে থেকে হানিফও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিয়েছেন বলে তার সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে উসকানি ও সহায়তার পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থেকে সমর্থন দেন হানিফ। এ ছাড়া টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব কথোপকথন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর।

এর আগে গত ১০ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তার জেরার মধ্য দিয়ে মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। পরে প্রসিকিউশনের অতিরিক্ত প্রমাণাদি দাখিলের কারণে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

গত বছরের ২ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে এবং পরদিন তা আমলে নেওয়া হয়।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য, ষড়যন্ত্র এবং কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়