
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন শুরুর দিন থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন আচরণ করে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ অভিযোগ করেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সম্মান রেখে বলতে চাই, আজকে নতুন করে তিনি এই শব্দগুলো উচ্চারণ করেননি। সংসদ অধিবেশন যেদিন থেকে বসা শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে সবাইকে বলেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘শিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন’—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা তার ছাত্র হওয়ার জন্য এখানে আসিনি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘শিক্ষকতা করতে হলে উনি একটা ইউনিভার্সিটি খুলুন। সেখানে যার পছন্দ হবে, গিয়ে ভর্তি হবে, উনার লেকচার শুনবে।’
তিনি আরও বলেন, একই বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুবার তাদের আক্রমণ করেছেন। এ ধরনের আচরণকে ‘পার্লামেন্টেরিয়ান ফ্যাসিজম’ উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে এমন আচরণ কাম্য নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দুঃখ প্রকাশের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদের সৌন্দর্য রক্ষায় তাকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে এবং তার বক্তব্য কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দিতে হবে। তা না হলে ‘অপমান নিয়ে’ সংসদে বসার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর জন্যই বসে। তিনি সংসদ সদস্যদের মধ্যে ক্রমেই অসহিষ্ণুতা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্পিকার বলেন, সংসদে কথা বলার স্বাধীনতা দিতে হবে। একজন মন্ত্রীকেও তার বক্তব্য শেষ করার সুযোগ দিতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা যে অভিযোগ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। বক্তব্যে অসংসদীয় কোনো শব্দ থাকলে তা কার্যপ্রণালি থেকে বাদ দেওয়া হবে।
তবে একই সঙ্গে স্পিকার সংসদ সদস্যদের কথা বলার স্বাধীনতা হরণ না করার আহ্বান জানান।