জিয়াউর রহমানই অরক্ষিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিলেন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ফানাম নিউজ
  ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০০:৫৮

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের অরক্ষিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে অফিসার্স ক্লাব ঢাকার উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। একদলীয় শাসনের কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। এমন সংকটময় মুহূর্তে ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে সিপাহী-জনতা জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশের নেতৃত্বের ভার তুলে দিয়েছিল।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতার মোহে বা নিজের উদ্যোগে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ঘটাননি। বরং জাতির প্রয়োজনে মানুষই তাকে নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছিল। তিনি বাংলাদেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সমসাময়িক অর্থনীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধানের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদের শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক সম্পত্তি নয়। এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও সর্বস্তরের মুক্তিকামী মানুষের চিরন্তন ও সার্বজনীন অর্জন।

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্রিটিশরা যেটিকে সিপাহী মিউটিনি বলে আখ্যা দিয়েছিল, সেটি মূলত উপমহাদেশের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধ। সেই বিপ্লব ব্যর্থ হলেও ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ব্যর্থ হয়নি। সেদিনের বিপ্লব সফল না হলে বাংলাদেশ হয়তো দীর্ঘ সময়ের জন্য পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে পড়ত।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই গণঅভ্যুত্থান এক দিনে গড়ে ওঠেনি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বহু মানুষের আত্মত্যাগ, রক্ত, গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিনিময়ে এ অর্জন এসেছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক শক্তির এককভাবে এর মালিকানা দাবি করা সমীচীন নয়। এই চেতনা সমগ্র জাতির।

সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে জনগণের সেবা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে প্রজাতন্ত্রের সেবা এবং জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নির্বাচিত সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বেআইনি আদেশ অমান্য করে নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা ও নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করা তাদের মৌলিক দায়িত্ব।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিভিল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক অংশীদার ও প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনিও এই পরিবারের একজন। অতীতে রাজনৈতিক চাপ, লোভ কিংবা ভীতির কারণে সিভিল সার্ভিসের একাংশ ভোটারবিহীন ও নৈশকালীন নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করেছে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর চরম মূল্য দিতে হয়েছে সিভিল প্রশাসনকে।

ভবিষ্যতে যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম বা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তাদের দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডেপুটি কমিশনাররা মাঠপর্যায়ে রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তাই তাদের দায়িত্ব অপরিসীম। নিজেদের সর্বদা পরিশীলিত রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পাঁচ বছর পর জনগণ যাদের ম্যান্ডেট দেবে, তাদের হাতেই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। কারণ পরিবর্তনই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।

অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সাধারণ সম্পাদক এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অফিসার্স ক্লাব ঢাকার ট্রেজারার ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়