
ঢাকা টেস্টের মতো সিলেট টেস্টেও যেন ধুঁকছিল বাংলাদেশ। শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে দল। এমন পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক ইনিংসে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরান তাওহীদ হৃদয়। তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি, সেটিকে রূপ দেন ডাবল সেঞ্চুরিতে। গড়েন একাধিক রেকর্ড।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই প্রথম হাফসেঞ্চুরি, এরপর সেঞ্চুরি এবং শেষ পর্যন্ত ডাবল সেঞ্চুরি—সব মিলিয়ে সিলেটে নিজের সামর্থ্যের নতুন পরিচয় দিয়েছেন এই ব্যাটার।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৩৪৩ বলে ২২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন হৃদয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এর আগে রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহিমের দখলে। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিক।
বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও ভেঙেছেন হৃদয়। এর আগে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিতে ১৮১ রান করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন মুমিনুল হক। হৃদয় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকেই নিয়ে গেছেন দ্বিশতকে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন হৃদয়। এর আগে দেশের হয়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। মুশফিকের রয়েছে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি। সাকিব ও তামিম করেছেন একটি করে।
সিলেট টেস্টের আগে চার ইনিংসে হৃদয়ের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৫৪ রান। ঢাকা টেস্টে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। টেস্ট দলে তার জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সিলেটে ব্যাট হাতে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার।
হৃদয়ের ইনিংসটি বিশেষ হয়ে থাকবে কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরার কারণেও। তিনি যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন বাংলাদেশের স্কোর ছিল ২ উইকেটে ২২ রান। চোটের কারণে ওপেনার সাদমান ইসলাম ব্যাট করতে পারেননি। দ্বিতীয় দিন মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে দিন শেষ করেন হৃদয়। পরদিন একের পর এক সতীর্থ সাজঘরে ফিরলেও লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটেই বড় সংগ্রহের আশা দেখছে বাংলাদেশ।