সপ্তাহে এক ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতায় সময় দিলেই বদলাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি: প্রধানমন্ত্রী

ফানাম নিউজ
  ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪২

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতি সপ্তাহে মাত্র এক ঘণ্টা করে পরিচ্ছন্নতায় সময় দিলেই ডেঙ্গু পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। নিজেদের বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হলে সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্ব নিতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার আগামী তিন মাস এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় শনিবার থেকে সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

অভিযানের আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু মশা নিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য নাগরিকদের নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা করে নিজের বাসা ও আশপাশ পরিষ্কারে সময় দিলে মশার প্রজননস্থল কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধ এবং পানি জমে থাকা রোধ করাও জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তিন মাসব্যাপী এ অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়